ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ মানুষ।

দেশটির অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রাথমিকভাবে হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র সামনে আসছে, তাতে এই সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (টঝএঝ) জানিয়েছে, পরপর দুটি তীব্র কম্পনের ফলে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির এই ঝুঁকি ও প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম লা পাতিয়ার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব স্কুল-কলেজের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে পাতালরেল ও সাধারণ রেল চলাচল স্থগিত করার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের কার্যক্রমও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। রদ্রিগেজ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকবেন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল।

এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, বহু মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন এবং সরকার দ্রুততম সময়ে সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকার এবং একে অপরের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান। কাবেয়োর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা এলাকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ সেখানে একাধিক ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে তিনি চালকদের সড়ক ফাঁকা রাখার অনুরোধ করেছেন, যাতে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত যাতায়াত করতে পারেন এবং আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর ঠিক কিছুক্ষণ পরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জোড়া ভূকম্পনের ধাক্কায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ভবন ধস ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে সেনাবাহিনী মাঠে থেকে কাজ করছে।